বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, ক্যাম্পাসে শোডাউন ও অস্ত্রের মহড়ায় দু’গ্রুপের টান টান উত্তেজনা চলে আসছে। কুবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ‘বিলুপ্তির’ খবরে দুই পক্ষের অনুসারীদের উত্তেজনার মধ্যে সব আবাসিক হল বন্ধ করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভায় বসে প্রশাসন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী জানান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, “পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সব হল বন্ধ থাকবে। ছাত্রদের রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এবং ছাত্রীদের সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।” আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য সব ধরনের পরিবহন ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ‘বিলুপ্তির’ খবরে দুই পক্ষের অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষের নেতা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহীর অনুসারীরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে চক্কর দেয় এবং হাতবোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এর পরপরই ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের অনুসারীরা প্রকাশ্যে রামদা, ছেনিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পরে ক্যাম্পাসে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকি জানান।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান, মো. মোশাররফ হোসেন এবং শারমিন সুলতানা। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল শোডাউন ও অস্ত্রের মহড়া দেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মী শোডাউন করে ও বাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এক সময় মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বঙ্গবন্ধু হলের তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠে যেতে দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য সাবেক কমিটির নেতা-কর্মীরা হল থেকে রামদা, লাঠি, রড ও হকিস্টিক নিয়ে বের হয়ে আসেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ প্রক্টরিয়াল বডির অন্য সদস্যরা আসলে মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত চলে যান। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি মূল ফটকে পুলিশ মোতায়েন করে।এতগুলো মোটরসাইকেল ক্যাম্পাসে ঢুকলো কীভাবে-এমন প্রশ্নে মূল ফটকে দায়িত্বরত আনসার জালাল মিয়া বলেন, ‘আমরা গেটেই ছিলাম। মোটরসাইকেল আরোহীদের কয়েকজন নেমে নিজেরাই গেট খুলে ঢুকে পড়ে।’শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির নেতা-কর্মীদের দাবি, ক্যাম্পাসে হল দখল করতে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ এমন কাজ করেছে। এ সময় কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানকে শোডাউনে দেখা গেছে। এজন্য সাবেক কমিটির নেতারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এরআগে শুক্রবার রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি করা হয়। তবে শুরু থেকে কমিটি বিলুপ্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিধায় পড়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply